বিভাগঃ kobita
মাতৃভাষা
মায়ের কোলেতে শুয়ে ঊরুতে মস্তক থুয়ে খল খল সহাস্য বদন। অধরে অমৃত ক্ষরে আধ আধ মৃদু স্বরে আধ আধ বচনরচন।। কহিতে অন্তরে আশা মুখে নাহি কটু ভাষা ব্যাকুল হয়েছে কত তায়। মা-ম্মা-মা-মা-বা-ব্বা-বা-বা আবো আবো ...
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
গোঁফ চুরি
হেড আফিসের বড়বাবু লোকটি বড় শান্ত, তার যে এমন মাথার ব্যামো কেউ কখনো জান্ত? দিব্যি ছিলেন খোসমেজাজে চেয়ারখানি চেপে, একলা বসে ঝিম্ঝিমিয়ে হটাত্ গেলেন ক্ষেপে! আঁত্কে উঠে হাত‐পা ছুঁড়ে চোখটি ক’রে গোল! হ...
সুকুমার রায়
ঝর্ণা
ঝর্ণা! ঝর্ণা! সুন্দরী ঝর্ণা! তরলিত চন্দ্রিকা! চন্দন-বর্ণা! অঞ্চল সিঞ্চিত গৈরিকে স্বর্ণে, গিরি-মল্লিকা দোলে কুন্তলে কর্ণে, তনু ভরি' যৌবন, তাপসী অপর্ণা! ঝর্ণা! পাষাণের স্নেহধারা! তুষারের বিন্দু! ডাকে তো...
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে
দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত কাল সারারাত তার পাখা ঝরে পড়েছে বাতাসে চরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতন মনে হয় মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হতো। সারারাত ধরে তার পাখাখসা শব্দ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মৃত্যুর বিষয়ে
হত্যা করে আমাকে পাথরে অথচ কোলের কাছে ঝর্না ছিলাে, মায়াকাননের ফুল ছিলাে ফুটে, ছিলাে করপুটে পাগল শিকড় যা ধরে এ-দেহ-প্রাণ আবার বাতাস নিয়ে সংসার সাজাবে ভেবেছিলাে এই হাসি, শিশুমুখ, ফুল ফুটে-ওঠা আরাে কিছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চৈত্র-স্মৃতি
কবে কোন্ অতীতের সুমধুর চৈত্র-দ্বিপ্রহরে দুটি কাঁচা আম পেড়ে দিয়েছিনু তার কচি হাতে- স্নিগ্ধ শ্যাম সেই বর্ণ! শেষ-বসন্তের শূন্য ঘরে সেই মৃদু সৌরভের ছন্দটুকু কাঁপে মলয়াতে! তুচ্ছ দুটি ফল পেয়ে কী আনন্দে দীপ্...
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
সদর স্ট্রিট
যে - শিল্প ঐকিক নয়, তারে করো দান শুদ্রাণীরে চাঁড়ালের হাত দিয়া পোড়াও পুস্তকে, যদি কারো সাধ্য থাকে। গালো পিত্ত, গালো চোখ, বেটে করো কিমা, কলকাতায় ভেসে ওঠে আঞ্চলিক দুফী-র নীলিমা। তুমি পারো মেলে ধরতে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাহির থেকে
বেরিয়ে পড়ো হাওয়ায় ও-যে পায়ে পড়ছে এসে এমন রাতে ঘুম ভাঙাতো স্বপ্নাতুর চোখ ঘরের ভিতর হাওয়া খেলতো আলুল কালো কেশে ফুটে উঠতো ফুলের বাগান, যেতে হ'তো না। জানতাম না চূড়া পাঠায় হাওয়ার শান্ত সৈন্য কেয়ার নিচে যদি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বড়াই
গাছের গোড়ায় গর্ত করে ব্যাং বেঁধেছেন বাসা, মনের সুখে গাল ফুলিয়ে গান ধরেছেন খাসা। রাজার হাতি হাওদা -পিঠে হেলে দুলে আসে- বাপরে ব'লে ব্যাং বাবাজি গর্তে ঢোকেন ত্রাসে! রাজার হাতি মেজাজ ভারি হাজার রকম চাল...
সুকুমার রায়
নাম জীবন
চোখ ফেলে মাটি কুপিয়ে বেড়াই। হাওয়ায় ওঠে ফুরফুরিয়ে প্রজাপতির মতন পাখনা -ভরা নরম রােদ্দুরে পােড়া মাটি, ঘেঁস, বালি আর কাঠগুঁড়াে, —সব জায়গার মাটি তাে আর সমান নয়! তাকে জো–সাে করতে দুটো–একটা চন্দন–স...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়