মৃত্যুর পরেও যেন হেঁটে যেতে পারি
[ শান্তিরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতির প্রতি ] মানুষের মৃত্যু হলে মানুষের জন্যে তার শােক পড়ে থাকে কিছুদিন, ব্যবহৃত জিনিষেরা থাকে জামা ও কাপড় থাকে, ছেঁড়া জুতাে তাও থেকে যায়, হয়তাে বা পা-দুখানি রাঙা হলে পদচ্ছাপ থাকে অনুপস্থিতি আর মরা পদচ্ছাপ রেখে ওরা— যাদের পিছনে ফেলে দিয়ে গেলে, তারা মনে করে তা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমার সন্তান আমি দিয়ে যাব
তোমার বুকের পাশে শুয়ে থাকবে বিপুল আক্রোশে, স্তনদুটি শঙ্খনাদ করে উঠবে ঘুমন্ত কামড়ালে, নাভিগর্তে আঙুলের রক্ত ও প্রপাত পড়বে ঝরে—- এ-বয়সে সব কাজ করতে পারি প্রেমে ও সম্মোহে | বিদায় নেবার আগে বলে যেও অধরে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
হরিষে বিষাদ
দেখছে খোকা পঞ্জিকাতে এই বছরে কখন কবে ছুটির কত খবর লেখে, কিসের ছুটি কঁদিন হবে। ঈদ্ মহরম দোল্ দেওয়ালি বড়দিন আর বর্ষাশেষে- ভাবছে যত, ফুল্লমুখে ফুর্তিভরে ফেলছে হেসে এমন কালে নীল আকাশে হঠাৎ -খ্যাপা মেঘের...
সুকুমার রায়
খেয়া-ডিঙি
(ভাদ্রে) পাটের ক্ষেতের ভিতর দিয়ে ঘাটের ডিঙা বাই- তবু আমার হাটের সাথে কোনো বাঁধন নাই; শিরা-ওঠা ফাটা-হাতে হালের গোড়া ধরি আমি শুধু আপন মনে এপার-ওপার করি। তোমরা ভাবো ক্ষেত আর ফসল, বৃষ্টি বাদল বান, ডুবল কত...
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
স্মৃতির ভিতর
স্মৃতির ভিতর এক বাটি জল জলের মধ্য গুবরে পোকা আমায় দেখায় অন্ধ অগ্নি ফুল ফোটাচ্ছে থোকায়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পালোয়ান
খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতী লোফেন যখন তখন, দেহের ওজন উনিশটি মন, শক্ত যেন লোহার গঠন। একদিন এক গুন্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মারল বেগে- ভাঙল সে বাঁশ শোলার মত মট্ ক'রে তার কনুই লেগে। এইত সে দিন রাস্তা দিয়ে চল্...
সুকুমার রায়
ভয় পেয়োনা
ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তোমায় আমি মারব না— সত্যি বলছি কুস্তি ক'রে তোমার সঙ্গে পারব না। মনটা আমার বড্ড নরম, হাড়ে আমার রাগটি নেই, তোমায় আমি চিবিয়ে খাব এমন আমার সাধ্যি নেই! মাথায় আমার শিং দেখে ভ...
সুকুমার রায়
সে বড়ো সুখের সময় নয়
পা থেকে মাথা পর্যন্ত টলমল করে, দেয়ালে দেয়াল, কার্নিশে কার্নিশ, ফুটপাত বদল হয় মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার সময়, বাড়ির ভিতর বাড়ি, পায়ের ভিতর পা, বুকের ভিতর বুক আর কিছু নয়— ( আরো অনেক কিছু ? ) — তারও আগে পা থে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একলা আমি
আমি একটি নদীর মতন দৌড়ে যাবো ভেবেছিলাম আমি একটি গাছের মতন স্থির দাঁড়াবো ভেবেছিলাম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দূরের পাল্লা
ছিপখান তিন-দাঁড় - তিনজন মাল্লা চৌপর দিন-ভোর দ্যায় দূর-পাল্লা! পাড়ময় ঝোপঝাড় জঙ্গল-জঞ্জাল, জলময় শৈবাল পান্নার টাঁকশাল | কঞ্চির তীর-ঘর ঐ-চর জাগছে, বন-হাঁস ডিম তার শ্যাওলায় ঢাকছে| চুপ চুপ - ওই ডুব ...
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
বাগানের কেউ নয় নষ্ট ফল
নষ্ট কিছু ফল পড়ে মাটিতে গড়ায়। নিজে নয়, নিজে ও তো গড়াতে পারে না। কিছু পিঁপড়ে টেনে নিয়ে যায় ওকে খন্দে ফেলে দিতে-- ফেলে দেয়, ও কিছু বলে না। বলার উপায় নেই, ওর শুধু নষ্ট চেয়ে থাকা, চেয়ে-চেয়ে কিছু বলা, নষ্ট...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়