শ্রীগোবিন্দ-কথা
আমি অর্থাৎ শ্রীগোবিন্দ মানুষটি নই বাঁকা! যা বলি তা ভেবেই বলি, কথায় নেইক ফাঁকা। এখনকার সব সাহেবসুবো, সবাই আমায় চেনে দেখ্তে চাও ত দিতে পারি সাটিফিকেট এনে। ভাগ্য আমায় দেয়নি বটে করতে বি-এ পাশ, তাই বলে কি সময় কাটাই কেটে ঘোড়ার ঘাস? লোকে যে কয় বিদ্যে আমার 'কথামালা'ই শেষ- এর মধ্যে সত্যি কথা নেইক বিন্...
সুকুমার রায়
বিমানবন্দরে বিদায়
দুই কিশােরীর এই হাসি এই কান্না মুখের ধরা পড়ছে বৃদ্ধ চোখে কঠোর দুটি চক্ষে ফাটে জল-দোপাটি নিমন্ত্রণের সীমান্তে খেদ ... বিদায় বিদায়। মাঝখানে এক স্বচ্ছ কাচের পাঁচিল আড়াল যাচ্ছে এবং যাচ্ছেনাদের মধ্যে খ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অন্ধ বধূ
পায়ের তলায় নরম ঠেকল কী! আস্তে একটু চলনা ঠাকুর-ঝি — ওমা, এ যে ঝরা-বকুল ! নয়? তাইত বলি, বদোরের পাশে, রাত্তিরে কাল — মধুমদির বাসে আকাশ-পাতাল — কতই মনে হয় । জ্যৈষ্ঠ আসতে কদিন দেরি ভাই — আমের গায়ে বরণ...
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
প্রেমের প্রবেশ
প্রেম প্রবেশিল জানালার পথে, ধন প্রবেশিল দ্বারে; ধনেরে দেখিয়া আসিয়াছ বুঝি? শুধালাম আমি তারে। প্রেম পাখা নাড়ি কহিল কাঁদিয়া করুণ মধুর স্বরে,- গরিবের গৃহে যেমন আমার, তেমনি ধনীর ঘরে! ধন বাহিরিল জানালার পথে...
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
বন্দনা
নমি সত্য সনাতন নিত্য ধনে, নমি ভক্তিভরে নমি কায়েমনে। নমি বিশ্বচরাচর লোকপতে নমি সর্বজনাশ্রয় সর্বগতে। নমি সৃষ্টি-বিধারণ শক্তিধরে, নমি প্রাণপ্রবাহিত জীব জড়ে। তব জ্যোতিবিভাসিত বিশ্বপটে মহাশুন্যতলে তব নাম ...
সুকুমার রায়
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে
দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত কাল সারারাত তার পাখা ঝরে পড়েছে বাতাসে চরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতন মনে হয় মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হতো। সারারাত ধরে তার পাখাখসা শব্দ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বলাে, ভালােবাসাে
এই হাসপাতালে এসে দেখি শুধু আমার অসুখ। আর সবাই সুস্থ, প্রাণবন্ত, শুধু করিডােরে হাঁটে- এদিক-ওদিক যায়, জানলায় দাঁড়ায়, পাখি দ্যাখে, পাখিদের সঙ্গে কিছু কথা বলে, খবরকাগজ এখানে আসে না। কে আর তােয়াক্কা ক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৭৪
হাতে ধরে শিখায়েছাে বালুকায় হাঁটিব কেমনে দয়াময়! শেফালির ফুলে ও পাতায় ভরে আছো— কোমলতা দেখে দেখে চোখগুলি হয়েছে কঠোর যা ধরা দেবে না তারে ধরিব না, দেখিতে থাকিব ফলের স্বকীয় রসে কেমন শৌখিন হয় বেলা নগ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঊরু
নিরুপম ও যুগ্ম ঢাল লতাগুল্ম শিকড়ের দাগ লঘু প্রিয় শিল্পকাজে চিত্রিত মাটির পুষ্পপাত্র উষ্ণ, গোল, পূর্ণাধার, সংযুক্তি কি আমার প্রয়াগ ? ঝর্না করো মুগ্ধধারা আমি শেষ লম্পট অমাত্য নিশ্চিন্ত চতুর মুদ্রা শর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রকৃতির আলো-আঁধারে
প্রকৃতির আলোয় আঁধারে সাঁতার দিতে-দিতে কবিতার দোয়াতে ডুবিয়ে কলম যেন মাছরাঙা, জলে ছোঁ আকাশে বাহু তুলে কাঙাল লাফ 'তুমি আমারি — তুমি আমারি ' এই শেষ বোধে সতত ভেসে-যাওয়া কাদাজল মাঠ ভেদ ক'রে চন্দন-ছিটোনো কচু...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নাম জীবন
চোখ ফেলে মাটি কুপিয়ে বেড়াই। হাওয়ায় ওঠে ফুরফুরিয়ে প্রজাপতির মতন পাখনা -ভরা নরম রােদ্দুরে পােড়া মাটি, ঘেঁস, বালি আর কাঠগুঁড়াে, —সব জায়গার মাটি তাে আর সমান নয়! তাকে জো–সাে করতে দুটো–একটা চন্দন–স...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়