মূল বিষয়বস্তুতে যান
কবিতা

চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৩৬

আশা ছিলাে সন্তানের উৎপন্ন চুলের পরে হাত রাখা যাবে, আশা ছিল —এরকমতর ছিলো আশা সংসারে ও চৌরাস্তায় ন্যাংটার মুখশ্রীখানি দেখে একদিন অন্ধকারে নিজহাত রেখেছি মাথায়। সেইদিন অন্ধকারে লক্ষ লক্ষ নারীরে জানিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাষ্য, কবি - সংবর্ধনা ও ম্যাজিক বলেছি, যখন বলবাে ‘ লাইট মাের লাইট ’ তখনই জ্বালিয়ে দেব...

শক্তি চট্টোপাধ্যায়

কবিতা

ধ্বনি

দুদিকের মৃত্যু তাকে টান দেয় অন্ধকারে চোর গৃহস্থ সজাগ ক'রে শুধু স্থায়ী দরজা পেতে চায়? নাকি চায় সদর-খিড়কির স্থির পার হয়ে নতুন ভাঙচুর? পাঁচিল? নিষ্ক্রান্ত ডাল - সত্যের সীমানা পার-হও...

শক্তি চট্টোপাধ্যায়

কবিতা

হাত গণনা

ও পাড়ার নন্দগোঁসাই, আমাদের নন্দ খুড়ো, স্বভাবেতে সরল সোজা অমায়িক শান্ত বুড়ো৷ ছিল না তাঁর অসুখবিসুখ, ছিল সে যে মনের সুখে, দেখা যেত সদাই তারে হুঁকো হাতে হাস্যমুখে৷ হঠাৎ কি তার খেয়াল হল, চল্‌ল সে তার...

সুকুমার রায়

কবিতা

দু’জনের জন্যে

দু’জনের জন্যে এই স্বেচ্ছানির্বাসিত বনবাস গরুমারা বাংলোখানি জঙ্গলের গভীর টিলার উপরে, ঘোমটা পরে আছে- মুখ দেখবো বলে সমতল থেকে আমরা উঠে এসে দুয়ারে দাঁড়াই। পাটাতন তুলে নাও, পরিখা সজাগ করে দাও যাতে হাতি প...

শক্তি চট্টোপাধ্যায়

কবিতা

এখনো নিঃসঙ্গ কেন?

এখনো নিঃসঙ্গ কেন ভিড়ের মাঝখানে? ভিড় তো তোমাকে চায়, অরণ্যও চায়। সেখানে কি একটি গাছ একা থাকে, অবসন্ন থাকে? বোঝো এ-থাকার মানে ভিড়ের ভিতরে? বোঝো কিছু— এরই নাম অসুস্থতা, হলুদ অসুখ, এর থেকে পরিত্রাণ পেতে গে...

শক্তি চট্টোপাধ্যায়

কবিতা

জীবন ও মৃত্যু

জন্মের মাঝে মৃত্যুর বাস, সুখের মাঝারে দুখ; ওরে মন, তুই জেনে-শুনে তবু কেন বিষণ্ণ মুখ? ফুলের কোরকে ফলটি হেরিয়া ব্যথা পেয়েছিস্ কবে? জীবনের মাঝে মরণে দেখিয়া নয়ন মুছিতে হবে। চন্দ্র সূর্য অস্ত যায় সে, আবার ...

যতীন্দ্রমোহন বাগচী

কবিতা

রথ

কাননের কোলে শ্যামল কোমল পথটি- তাহারি উপরে চলিয়াছে ধীরে রথটি। সমুখে সুদূরে উদিছে প্রভাত রবি, হাসিছে জগৎ মধুর সোনালি ছবি, পথ তরুসারি ভরিয়া রয়েছে ফুলে, শাখায় শাখায় দোয়েল পাপিয়া বুলে; নব উৎসাহে চলেছে নূতন...

যতীন্দ্রমোহন বাগচী

কবিতা

কুম্‌ড়োপটাশ

(যদি) কুম্‌ড়োপটাশ নাচে— খবরদার এসো না কেউ আস্তাবলের কাছে; চাইবে নাকো ডাইনে বাঁয়ে চাইবে নাকো পাছে; চার পা তুলে থাকবে ঝুলে হট্টমূলার গাছে! (যদি) কুম্‌ড়োপটাশ কাঁদে— খবরদার! খবরদার! বসবে না কেউ ছাদে; উপুড়...

সুকুমার রায়

কবিতা

দুর্গা পূজা

ধর্ম হেতু কর্মযোগে পৌত্তলিক পূজা। নির্মাণ করহ সুখে দেবী দশভুজা।। প্রথমত মৃত্তিকায় প্রতিমা করিয়া। অর্চনা করহ যাঁরে ঈশ্বর স্মরিয়া।। অন্তরে অচলা ভক্তি করিয়া ধারণ। ধূপ দীপ দেহ যারে মুক্তির কারণ ।। নিজমতে ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

কবিতা

টিক্‌ টিক্‌ টং

টিক্‌ টিক্‌ চলে ঘড়ি, টিক্‌ টিক্‌ টিক্‌, একটা ইঁদুর এল সে সময়ে ঠিক। ঘড়ি দেখে একলাফে তাহাতে চড়িল, টং করে অমনি ঘড়ি বাজিয়া উঠিল। অমনি ইঁদুরভায়া ল্যাজ গুটাইয়া, ঘড়ির উপর থেকে পড়ে লাফাইয়া। ছুটিয়া...

সুকুমার রায়

কবিতা

কেন?

কেন অবেলায় যাবে ? বেলা হোক , ছিন্ন করে যেও সকল সম্পর্ক ! যেন গাছ থেকে লতা গেছে ছিঁড়ে একটি বিষণ্ণ লোক থাকে যেন হাস‍্যময় ভিড়ে কেন অবেলায় যাবে ? বেলা হোক , ছিন্ন করে যেও সকল সম্পর্ক ।...

শক্তি চট্টোপাধ্যায়

Loading...