ধর্মের সোপানগুলি কাঁদে
ভক্তের পায়ের স্পর্শে ধর্মের সোপানগুলি কাঁদে। প্রতিমা একাকী থাকতে চায়— কোনো ভক্তই বোঝে না, কবিত্ব-অসুখে ভুগে প্রতিমা একাকী থাকতে চায়; অন্তত একদিন ওকে ছুটি দাও, ও ভক্তমণ্ডলী— ভক্তের পায়ের স্পর্শে ধর্মের সোপানগুলি কাঁদে স্থানান্তরিত করো প্রতিমাকে এক রহস্যলোকে। কিছুক্ষণ আয়ু দাও কিশোরীর, আনমনা হোক, ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কালোর আলো
কালোর বিভায় পূর্ণ ভুবন, কালোরে কি করিস ঘৃণা? আকাশ-ভরা আলো বিফল কালো আঁখির আলো বিনা। কালো ফণীর মাথায় মণি, সোনার আধার আঁধার খনি, বাসন্তী রং নয় সে পাখীর বসন্তে যে বাজায় বীণা, কালোর গানে পুলক আনে, অসাড় বন...
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
আমরা কোথায় এখন
আমরা কোথায় এখন দাঁড়িয়ে আছি জানি না কেউ এপার-ওপার পুড়ছে নীল আগুনে, নদীতে ঢেউ বলো, জোয়ার আছে? এ–এ মাঝি, জোয়ার আছে? পাল ছিঁড়ে আজ চল না সবাই চল না মাঝি পারের কাছে এ-এ চল না পারের কাছে ভয় কি আগুনে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কিম্ভূত!
বিদঘুটে জানোয়ার কিমাকার কিম্ভুত, সারাদিন ধ'রে তার শুনি শুধু খুঁৎ খুঁৎ। মাঠ পারে ঘাট পারে কেঁদে মরে খালি সে, ঘ্যান্ ঘ্যান আব্দারে ঘন ঘন নালিশে। এটা চাই সেটা চাই কত তার বায়না- কি যে চায় তাও ছাই বোঝা ...
সুকুমার রায়
এই বাংলাদেশ ছেড়ে
এক মুর্খ, তার কাছে মানুষের ঘনিষ্ঠ মন্দির অবিবেচনার মতো শুকনো চোখে দৃষ্টি ফেলে–রাখা দেখা নয়, শুধু কিছু দৃশ্যের মতন ক্ষিপ্র চাল চঞ্চল প্রেক্ষিত জুড়ে পড়ে আছে। এই স্নেহমাখ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মন্দিরের থেকে বহু শতাব্দীর অন্ধকার
মন্দিরের থেকে বহু, শতাব্দীর অন্ধকার আজ বেরিয়ে পড়েছে পথে এক অংশ ঢুকেছে জঙ্গলে বাদুড়ের মতো ঝুলে রয়েছে গাছের ডালে ডালে কিছুটা আঁধার গেছে মিশে ঐ সবুজ পাতায় পাতাকুড়ানিরা কিছু অন্ধকার ঝুড়িতে রেখেছে শ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানিনী বর্তমান
ছিটেবেড়ার দেয়াল ঘিরে ঝকঝকে ঘর ছোট্ট উঠোনখানি একটু সবুজ ঢলঢলে পুঁই, তার মধ্যেই সুখ বেঁধেছো সখি নিপুণ নাবালিকার মতো, চোখের তীরে কাজলরেখা টানি, দুয়োরে পা ছড়িয়ে বসে কাপড় হতে তুলছো করুণ পাখি। একা থাক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঋত্বিক, তোমার জন্য
এখন নিশ্চিন্ত, মৃত আর ভয় দেখাতে আসবে না সুদুরের পথে ফেলে দীর্ঘ ছায়া দাঁড়াবে না দ্বারে ভিতরে ভাঙবে না অস্থি, ঘরবাড়ি – সন্ন্যাসী-সংসার কিছুই করবে না যাতে মানুষের পাপস্পর্শ আছে আছে আছে বলে তুমি, যেখানে য...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একটি তাঁবুর মাঝে
একটি তাঁবুর মাঝে আমি কোনো মহিলার নয় দুপুরের অরণ্যের ভিতরে যখন জেব্রা ডাকে সাড়া দেয়, দূর হতে সাড়া দেয় স্কুলের ঘণ্টায় মুণ্ডাদের শ্যামল ও চিক্কণ ছেলেরা বনভাগে। কখনো জাহাজ হতে অরণ্যের অতিবৃষ্টিপাত হ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অবাক কাণ্ড
শুন্ছ দাদা! ঐ যে হোথায় বদ্যি বুড়ো থাকে, সে নাকি রোজ খাবার সময় হাত দিয়ে ভাত মাখে? শুন্ছি নাকি খিদেও পায় সারাদিন না খেলে? চক্ষু নাকি আপনি বোজে ঘুমটি তেমন পেলে? চল্তে গেলে ঠ্যাং নাকি তার ভূয়েঁর ...
সুকুমার রায়
দুই বাংলাই রইলো না কাছাকাছি
নদী থেকে নদী পার হতে ভয় লাগে কে জানে কোথায় দ্বীপের বসতি জাগে বলে — ‘এসো আমি বহুদিন বসে আছি। গ্রাম থেকে গ্রাম পার হতে ভয় লাগে হয়তো বিদেশি যায়নি সেখানে আগে সুতরাং,‘থাকো,যেভাবে আমরা আছি।' নিজেদেরই দ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়