দীর্ঘদিন পরে তার করস্পর্শ
ভালোবাসা দীর্ঘদিন পরে তার করস্পর্শ করে। ধুন্ধুমার লেগে যায়, মাংসের ভিতরে ছুঁচ ফোটে, শিরায় বারুদ ঢেলে তারপরে করেছে চুম্বন ফুটন্ত রক্তের মধ্যে এবার একমুঠি চাল ঢালো। ভালোবাসা দীর্ঘদিন পরে তার করস্পর্শ করে। মেঘের ভিতরে ফাটে মেঘের মাংসের খণ্ডগুলি । হেমবজ্রপাত হয়, সর্বাংগে চিক্কুর যায় দেখা, শিকড়ে জড়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মনে রেখাে, ভালােবাসা বাঁচায় ও মারে
তপসিয়া আকাশের নীল শাদা পরিপ্রেক্ষিতের একাংশ দখল ক 'রে গােদাচিল, অসংখ্য অজস্র চিল ছাই মেখে ঘুরে ঘুরে ওড়ে। হয়তাে ধাপার কোনও নালার ভিতরে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে হরিণ – রঙের গাই, টের পাই গােদার ওড়ায়। ঘয়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জুলেখা ডব্ সন
ছিলো অনেক রাজার বাড়ি চকমিলানো হাজার গাড়ি এবং হ্রদে সোনালি অগণন হাঁসের দল দোলায় পাখা তবু তোমার সঙ্গে থাকা চমত্কার জুলেখা ডব্ সন। ঈশানকোণে অমনোযোগে মেঘের ঝুঁটি ধরেছে রোগে দুমড়ে পড়ে প্রবলা শালবন চাঁদ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কেউ কি যাবে
কেউ কি যাবে ? কেউ কি চলে যাবে ? যেভাবে জল জলের মতো যায় যেভাবে ফুল ফুলের দিকে চায় সেভাবে কেউ নিজেকে ফিরে পাবে! কেউ কি যাবে ? কেউ কি চলে যাবে ? ভালো থাকার ভিতরে ভাঙে ঘর সর্বনাশ হবে স্বয়ম্বর অন্ধকার হ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চিত্রশিল্প অনন্তকাল
খুকু, আমি সাধ্যমতো ছবিগুলো একেছিলাম... দুয়ার, জ্যোৎস্না, তাঁবুর পাশে ইতস্তত পোড়া কয়লা, কাঁটার লতা, আমরুলের পুঞ্জ-পুঞ্জ নীল অম্লতা সমস্তই এঁকেছিলাম... বৃষ্টি জোঁক পুনর্জন্ম ম্লান আভাস কয়েকজন গরিব ভালোব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষ যেভাবে কাঁদে
মানুষ যেভাবে কাঁদে, তেমনি কি কাঁদে পশুপাখি? একা থাকি বড়ো একা থাকি। ভিতরে ভিতরে একা, অরণ্যের মধ্যিখানে একা ঘরে ও বাহিরে একা, দিনে-রাতে, দুঃখে ও সুখে ছায়া নেই, মায়া নেই, ফুলের বাগানে নেই ফুল ঝর্নার মতন ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মিষ্টিগুড়ের ইস্টিশানে
এক পাড়াগাঁ থেকে আরেক পাড়াগাঁয় উঠে এলুম রেলগাড়ি থামলো এসে মিষ্টিগুড়ের ইস্টিশানে হাতে রইলো টোপর-ঝোপর, বড়ি-বেগুন, দাদুর লাঠি লটবহর বলতে আরশুলা আর পোকায় কাটা প্রচ্ছদছেঁড়া নোংড়া বই মনে রইলো টেঁ-টুঁই...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বিরহে যদি দাঁড়িয়ে ওঠো
আসলে কেউ বড়াে হয় না, বড়াের মতাে দেখায়। নকলে আর আসলে তাকে বড়াের মতাে দেখায়, গাছের কাছে গিয়ে দাঁড়াও, দেখবে কতাে ছােটো, সােনার তাল তাংড়ে ধরে পেয়েছাে ধূলিমুঠো। ভালবাসার দীঘিতে কতাে করেছাে অবগাহন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী –১৩
এখন পাতার শব্দে জেগে উঠি, পাতার পতনে মনে হয় ওতপ্রােত বক্ষোপরে তােমার পতন হয় নাথ ! দাবানল জ্বলে প্রতি বৃক্ষেরে ঘেরিয়া— মালা ব্যক্তিগত অয়ি, শুধু জাগে গােলাপের ফাঁকি সমর্পণে। যদি যাও, আমারে মাড়ায়ে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সকলের চেয়ে বেশি অহংকার নিয়ে
কেউ কি প্রকৃত ঠিক করে দিয়েছিলাে? নাকি বাহুবলে তাকে বাগানের ভ্রূ-মধ্যে রেখেছি এবং নিশ্চিন্ত আছি, কিছুদিন — জানি দাঁড়াবে না পা দিয়ে চৌকাঠে যেন বলবে না, এখন তােমার বাগানে যাবার পালা — কিছুদিন গাছ হয়ে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুটি হাতের স্পর্শ দিয়ে
দুটি হাতের স্পর্শ দিয়ে আমায় করো জীবন্মৃত এইটুকুনি অসীম প্রীতি— দিয়ে, আমায় কেবল করো জীবন্মৃত। ইচ্ছে ছিলাে বেঁচে থাকার, সুখে থাকার, তার বদলে ভােগ করেছি কেবলি শীত ; অতল বরফ টানে আমায় অন্য কোথায়! দু...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়